প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিতরা

0
535
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিতরা
ছবি: সংগৃহিত

বিডি জবস নিউজ ডেস্ক: পদোন্নতিবঞ্চিত অতিরিক্ত সচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের (১৩তম) ব্যাচের কর্মকর্তারা। তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে মানণীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদনপত্র তারা ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কাছে পাঠিয়েছেন।

“প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয় এ আবেদনে।” তারা মনে করেন, এসিআর ও শৃঙ্খলা প্রতিবেদন যথাযথ থাকা সত্ত্বেও তাদের অন্যায়-ভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সেসব কর্মকর্তাদের কয়েকজন রোববার যুগান্তরকে বলেন, পদোন্নতি সবাই পাবেন না। এটিই বাস্তবতা। কিন্তু পদোন্নতি বিধিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে পদোন্নতিবঞ্চিত করার আইনত সুযোগ নেই। পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) সুপারিশ করার একমাত্র বডি হলেও সেটি বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সবচেয়ে বড় কথা হল, প্রকাশ্যে কোনো কিছু স্বীকার না করলেও একজন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তা নিজে অন্তত বুঝবেন তিনি কী কারণে পদোন্নতি পাননি। হয় গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে, নতুবা ইতোমধ্যে শাস্তি হয়েছে। অথবা তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কর্মজীবনে নিজেকে বর্তমান সরকারবিরোধী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

কিন্তু এসবের কোন কিছুতেই যখন কেউ নিজেকে ফেলতে পারছেন না, তখন তিনি মনকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। ভাবছেন, তাহলে এর নাম কি স্মার্ট পদোন্নতি! তারা বলেন, ২০১৭ সালে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার সময় তাদের ব্যাচের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আসা বিশেষ সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবাদ নিয়ে এসএসবিতে বিস্তর আলোচনা হয়। সে সময় এসএসবির কোনো কোনো সদস্য এসব প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দেন। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসির মাধ্যমে যাচাই করতে গোপনীয় প্রতিবেদন আনা হয়। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে ওই বিশেষ সংস্থার প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এর ফলে ওই সময় এসএসবি যাদের পদোন্নতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদের শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করে। এরপর তারা যুগ্মসচিব হন’।

সংক্ষুব্ধ সেসব কর্মকর্তারা বলেন, “আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি আগের সেই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের এবার বাদ দেয়া হয়েছে। তাহলে সেই সময় দেয়া ডিসির প্রতিবেদন কি মিথ্যা ছিল? না তারা গত ৩ বছরে নতুন করে সরকারবিরোধী হয়ে গেছেন। বরং ২০১২ সালে এই ব্যাচের উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার সময় যেসব প্রতিবেদন আমলে নেয়া হয়েছিল সেগুলো পুনরায় যাচাই করে দেখা হোক। তাহলে চাঞ্চল্যকর অনেক কিছু ধরা পড়বে। চিহ্নিত সরকারবিরোধী কর্মকর্তাদের কতজন তখন পদোন্নতি পেয়েছিলেন এবং পরে তারা কিভাবে সাচ্চা আওয়ামী লীগ বনে গেছেন। বিপরীতে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের অনেককে সরকারবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের তকমা দিয়ে পদোন্নতি দেয়া হয়নি।’

মানণীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখা এ আবেদনপত্রে বলা হয়, অতিরিক্ত সচিব পদে ২৬ সেপ্টেম্বর ৯৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ১৩তম ব্যাচের ১২২ জন কর্মকর্তা পদোন্নতিপ্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ৬৭ জনকে। উপসচিব ও যুগ্মসচিব হিসেবে বর্তমান সরকারের আমলে নিয়মিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১৯ জন কর্মকর্তার এসিআর ও শৃঙ্খলা প্রতিবেদন যথাযথ থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া পরে পদোন্নতিপ্রাপ্ত আরও ৩৪ জন কর্মকর্তাসহ এ ব্যাচের ১৫৬ জন কর্মকর্তার প্রায় অর্ধেককে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হয়নি।

এর আগে একটি ব্যাচকে খণ্ডিত করে কখনও অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি বিবেচনা করা হয়নি। অথচ একই সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে আত্তীকৃত ইকোনমিক ক্যাডারের সব কর্মকর্তাকে চাকরিতে যোগদানের কাল অনুসারে উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পরপর তিন দিনের আদেশে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও সিনিয়রিটি প্রদান করা হয়েছে।

(৮ম ব্যাচ থেকে ১১তম ব্যাচ পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব পদে একেবারে সর্বনিু পদোন্নতির সংখ্যা ছিল ১৩৪ জন। এবার অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সংখ্যা ছিল ৯৮ জন। ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের চাকরিকাল ২৬ বছর পার হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ব্যাচের ৮ জন কর্মকর্তা মারা গেছেন ও ২ জন পিআরএল-এ গেছেন। আরও ২ জন কর্মকর্তা এ বছর পিআরএল-এ যাবেন। এ ব্যাচের কর্মকর্তারা চাকরির ১৮ বছরে উপসচিব ও ২৩ বছরে যুগ্মসচিব হয়েছেন, যা অন্যান্য ব্যাচের তুলনায় অনেক বেশি সময় পরে হয়েছে। অধিকাংশ কর্মকর্তাদের গড় চাকরিকাল অবশিষ্ট আছে ২-৩ বছর)

এছাড়াও ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অতিরিক্ত সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পিআরএল-এ যাওয়ার সংখ্যা ২২৫ জন। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে পদোন্নতি পাওয়া ৯৮ জন বাদ দিলে অবশিষ্ট ১২৭ জনকে এখনও এ পদে পদোন্নতি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু প্রশাসনের পিরামিড কাঠামোকে একটি স্বাভাবিক চেহারায় ফিরিয়ে নিতে বর্তমানে শূন্যপদ বিবেচনা না করেই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, সেহেতু এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত কখনও প্রশাসনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে না।

অন্যদিকে, সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের চুক্তিতে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ১৩তম ব্যাচের পদোন্নতিযোগ্য যুগ্মসচিবদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনা করা একান্তভাবে কাম্য।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পিআরএল-এ যাওয়া ১২৭টি পদের বিপরীতে এ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ৮৯ জন ও ইকোনমিক ক্যাডারের ২৭ জনসহ মোট ১১৮ জন কর্মকর্তাকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তাদের জানামতে পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ থাকা সত্ত্বেও এবার অতিরিক্ত সচিব পদে ১৩তম ব্যাচ থেকে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন মতিউল ইসলাম, আবু জুবায়ের হোসেন বাবলু, আবদুস সালাম, ড. মোহা. বশীরুল আলম, কবির আহামাদ, মো. নবীরুল ইসলাম, অমল কৃঞ্চ মণ্ডল, আবদুস সাত্তার শেখ, আহসান কবীর, কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস, মো. হিরুজ্জামান, কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান, ডা. পারভেজ রহিম, রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, সোহেল ইসলাম খান ও কামরুল হাসান খান। এছাড়া অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি ছাড়াই এ মাসে পিআরএল-এ যেতে হচ্ছে যুগ্মসচিব আশরাফুজ্জামানকে। অপরদিকে লেফআউট কর্মকর্তাসহ প্রশাসনে অপশন দিয়ে আসা অন্যান্য ক্যাডারের পদোন্নতিযোগ্য যুগ্মসচিবদের সত্বর অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়াও সময়ের দাবি। এমনটিই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: জাতীয় পত্রিকা যুগান্তুর

ঢাবির অনার্স-মাস্টার্সের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here